শিল্পী

শিল্পী

(সমস্ত ঘটনা এবং চরিত্র কাল্পনিক)
 
মাসুদ আহমেদ
 
 

উ ৎ স র্গ

ফ্লোরিনকে
 
 

নিবেদন

 
তারাশংকরের “কবি” বোধ হয় অন্ততঃ দশবার পড়েছি। সে থেকেই মনে হয়েছে লক্ষ মানুষকে সুকণ্ঠ দিয়ে যে পেশার মানুষরা আনন্দে আপ্লুত করে জীবনের মূল সময়টা ব্যয় করেন তাদেরকে নিয়ে লিখি। 
 
তাদের পরিশ্রম, ত্যাগ আর নিষ্ঠার বিনিময়ে তাদের প্রাপ্তিটা কি তার পরিমাপ সমাজে কমই হয়েছে। তাই বোধ হয় নিশ্চিত হয়নি তাদের সম্মান আর জীবিকার ন্যূনতম নিরাপত্তা। যে কোন বিচারে শীর্ষ মানের এসব শিল্পীদের অনেকেই যখন একটা ব্যাধির কবলে পড়েন তখন দেখি তাঁদের চিকিৎসার জন্য চাঁদা তোলা হচ্ছে, তাঁদের সন্তানরা ঘরে ঘরে ঘুরছেন তাদের গানের ক্যাসেট বা সিডি বিক্রি করার জন্য। তা থেকেই “শিল্পী”র কল্পনা করেছি।
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছু বাংলাদেশীদের সংখ্যা কখনোই খুব কম ছিল না। এতে অনেকেরই জীবন গড়ার সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়নের সমান্তরালে একান্ত ব্যক্তিগত দুঃখের ঘটনাও অনিবার্যভাবে ঘটেছে। “কলোরাডো” তেমনি ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যক্তির সফলতা আর ব্যথা বেদনার এক কাল্পনিক কড়চা নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি।
 
তবে মানুষকে কাঁদানোর চেয়ে প্রাণের ভেতর থেকে হাসি বের করে আনা অনেক কঠিন। তাই লেখার বিচার পাঠকরাই করবেন। এর আগে মেসার্স হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশ করা আমার লেখা ‘আহির ভাঁয়রো’ গল্পগ্রন্থটি যেসব পাঠকরা গ্রহণ করে আরো লিখতে উৎসাহ দিয়েছিলেন তাদেরকে এই সুযোগে কৃতজ্ঞতা জানাই।
 
যা থেকে সাহিত্য হয় তা দেখতে এবং উপলব্ধি করতে সহায়তাকারী মিলিটারী একাউন্টসের দেলোয়ার হোসেন ও ব্রাসেলসের ফয়জুল লতীফ চৌধুরীকে জানাই কৃতজ্ঞতা। 
 
বইটির প্রকাশের কাজে নিবিড় সহযোগীতার জন্য মেসার্স হাক্কানী পাবলিশার্সের স্বত্ত্বাধিকারী জনাব গোলাম মোস্তফা, নির্বাহী পরিচালক শ্রী বি.বি রায় চৌধুরী এবং সহকর্মী জনাব মোল্লা মনসুর আহমেদকে জানাই ধন্যবাদ। 
 
নানাবিধ পক্ষপাতিত্ব পাঠকরা ক্ষমা করবেন বলে আশা করি।
 
মাসুদ আহমেদ
 
 

এই লেখকের অন্যান্য বই

  • ‘আহির ভাঁয়রো’
  • ‘গৌরী ও একুশ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ’
  • ‘নীতি শিক্ষা’ শিশু এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় সমূহ’
  • ‘লেডী টীচার নিচ্ছি/নিচ্ছি।
 
 
 

শিল্পী

নভেম্বর, ১৯৬৫। 

বৃহস্পতিবার।

 

সন্ধ্যা হয় হয়। বছরের এ সময়ে আবহাওয়া এমন অকরুণ সাধারণতঃ থাকে না। বিকেলের একটু আগে থেকে ঠাণ্ডা পড়েছে। আকাশজোড়া মেঘ। বিজলী চমকাচ্ছে, সেই সঙ্গে কদমতালে বৃষ্টি। ঠাণ্ডা বেড়ে চলেছে।
 
তবে যেমন গৌতম তেমনি হয় নাচিকেত, তেমনিই যেমন ছাত্র তেমনি শিক্ষক। 
 
এরফান স্কুল থেকে এসে খেয়ে আর শুতে যায়নি। পাছে ওস্তাদ এসে তাকে ঘুমোনো দেখতে পান। তাই কিছুক্ষণ অংক আর জ্যামিতি প্র্যাকটিস্ করে হারমোনিয়ম তবলা নিয়ে বসে গেছে। 
 
ধুলোঝড় আর বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় সমীরণ বাবুও এসে ঢুকলেন। বেলা তখন পাঁচটা। 
 
ভেতরে এরফানের বাবা দেওয়ানগঞ্জের সারকেল অফিসার আঃ বারী সাহেব ঘুমিয়ে পড়েছেন অনেক আগে। ওর মা জেগে আছেন। সমীরণ বাবু সপ্তাহে চারদিন আসেন। এ সময়টাতে তিনি ঘুমান না। ভেতরে দাঁড়িয়ে থেকে ছেলের সংগীতচর্চ্চা শুনতে থাকেন।
 
সমীরণ বাবুর নিযুক্তির বয়স মাত্র এক সপ্তাহ। ছাতা ঝেড়ে, জুতো একপাশে রেখে তিনি ছাত্রকে তালিম দেয়া শুরু করলেন। চল্লিশ মিনিট পার হলো। তাঁর বয়স পঞ্চাশের মত হবে। তাঁর অনেক ছাত্র-ছাত্রী রেডিও পাকিস্তান এবং কোলকাতা বেতারে “এ” গ্রেডের আর্টিষ্ট। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কখন কি প্রশ্ন করবেন তা তার মুখ দেখে বোঝা যায় না। ছাত্রকে এবার থামতে বললেন। শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলেন,
 
‘সাতটি শুদ্ধ স্বরের নাম বল তো।’
‘স্যার, স-র গ-ম প-ধ-ন।’
‘এবার বিকৃত স্বরগুলি বল।’
‘ঋ,স,দ,ণ ও ক্ষ।’
‘গান্ধার, নিষাদ আর ঋসভ কাকে বলে, দেখিয়ে দাও।’
এরফান হারমোনিয়ামে স্বরগুলি দেখিয়ে দেয়।
সমীরণ বাবুর উপাধি মুখোপাধ্যায়, এটি কেউ গ্রহণ করতে পারে না, এতে জন্মগ্রহণ করতে হয়। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তিনি বিজ্ঞানমনষ্ক। নিজের ছেলেকেও গান শেখাতে অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘আলু পটলের না হলেও তোমার জন্য বাদ্যযন্ত্রের ব্যবসাই হবে উপযুক্ত পেশা, কিন্তু কোন অবস্থাতেই সঙ্গীত নয়।
 
কাজেই অন্যের প্রশংসা তার মুখ থেকে সহজে বের হয় না। এরফানের উত্তরে তিনি বলতে যাচ্ছিলেন ‘এক্সিলেন্ট’, তা বললেন না। অন্য কথা বললেন। 
 
‘প্রতিদিন কতক্ষণ রেওয়াজ করছো তুমি?’
‘এক ঘণ্টা স্যার, সকাল বিকালে মিলে।’
‘বেশ, তবে পড়াশুনা কিন্তু আগে।’
‘স্যার একটা কথা বলবো?’
‘বল।’
 
‘আমি ঢাকা ডিভিশনে ক্লাশ এইটের বৃত্তি পরীক্ষায় গতবার ফার্ষ্ট হয়েছি। কাজেই চিন্তা করবেন না ---।’
 
‘কথাটা আমার জানা ছিল না, তাই বলেছি, যাহোক শুনে খুশী হলাম।’
উনি ভেবে দেখলেন পড়াশোনার ব্যাপারে খুশি প্রকাশ করলে তার ছাত্রটির ক্ষতি হবে না।
 
সমীরণ বাবু সহজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করেন না। প্রথমে প্রার্থীর কণ্ঠস্বর নিজে শোনেন। তারপর বাছাই করেন। তাঁর একটি ইন্সটিটিউট আছে। সেখান থেকে খুব কমসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীই ফাইনালি বের হয়ে আসতে পারে। আর অল্প কিছু ছাত্র-ছাত্রীর বাসায় গিয়ে তিনি সঙ্গীত শিক্ষা দেন। 
 
তাঁর সম্মানীর অংকটি বেশ চড়া। যদিও এরফানের শিক্ষা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের, অনেকদিন পর আজ তাঁর মনে হলো একটি সঙ্গীত প্রতিভার জন্ম তিনি দেখতে পাচ্ছেন। এবং সেটি খুব দূরের বিষয় নয়।
 
আগামী তিন দিন তিনি আসবেন না। এরফানকে কয়েকটা হোমটাস্ক দিয়ে আজকের মত বিদায় নিলেন সমীরণ বাবু।
 
* * *
 
বারী সাহেব জামালপুর শহরে বদলী হয়েছেন। এরফান ক্লাশ টেনে উঠেছে সেকেন্ড হয়ে। এর মধ্যে এরফান তারানা, চতুরঙ্গ, বিলাবল, ইমন কল্যাণ, ভূপালী, কাফি এবং ভায়রো পুরোপুরি হেফ্জ করে ফেলেছে। ওর একেক সপ্তাহের প্রোগ্রেস দেখে সমীরণ বাবু শিহরিত হয়েছেন। মাত্র দু’বছরে তাঁর খুব কম ষ্টুডেন্ট এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে। বদলীর কথা শুনে সমীরণ বাবু এরফানের জন্য একটা খাতা তৈরি করলেন। পরের যে দিন ওদের বাসায় শেখানোর কথা সেদিন ওটা নিয়ে গেলেন। এরফানের বাবাকে খাতাটা দিয়ে বললেন, ‘এটা ফলো করলেই চলবে। আমি সাধারণতঃ এরকম খাতা তৈরি করি না।’
 
আলাদাভাবে ছাত্রকে ডাকলেন। বললেন,
‘তোমাকে আর শেখাতে পারছি না তাই কয়েকটা কথা বলবো।’
‘জী স্যার, বলুন।’
‘তুমি তো ক্লাসিকাল শিখছো। ফাইনালি কোন্ ব্রাঞ্চে যেতে চাও তা ঠিক করেছ?’
‘রবীন্দ্রসঙ্গীত আর আধুনিক।’
ভ্রু কুঁচকে উঠেছে সমীরণ বাবুর। বললেন,
‘রবীন্দ্রসঙ্গীত তোমার হবে না। চেষ্টা করলে সময় নষ্ট করবে। আধুনিক আর ক্ল্যাসিকালে তুমি উঠতে পারবে।’
 
মনে মনে বললেন, ‘বেশ উপরে উঠতে পারবে।’
এরফান বয়সে অল্প হলেও জানে যে তাঁর শিক্ষক কথা খুব কম বলেন। অর্থহীন কথা বলেনই না। আহত কণ্ঠে বলল,
‘স্যার রবীন্দ্রসঙ্গীত খুব পছন্দের বিষয় আমার।’
‘তাতে কিছু আসে যায় না। ভগবান তোমাকে সেই কণ্ঠটি দেননি। ওটি আনার চেষ্টা করলে যা আছে তাও নষ্ট করবে। তোমার মঙ্গল কামনা করি।’
 
এরফান নিজের কণ্ঠ সম্পর্কে অসচেতন নয়। যেমনি সুন্দর ফর্সা কোন মেয়ে তার রূপ সম্পর্কে উদাসীন থাকতে পারে না। তারপরও আজ ব্রাহ্মণ ওস্তাদের কথায় মনটা আশাহত হয়েছে। গান গাওয়া ওর এখনো নিষেধ। গোপনে বাড়ির ভেতর, যখন কোন অবস্থাতেই এই প্রৌঢ় ওস্তাদের হঠাৎ এসে পড়ার সম্ভাবনা নেই, তখন ও গান শুনে মুখস্ত করে এবং গায়। মা এবং সহপাঠীরা ওকে জানিয়েছে ওর কণ্ঠটি কিরকম শোনায়। 
 
এরফানের বাবা সঙ্গীতবিমুখ। মা ক্লাশ সেভেনে উঠেছিলেন। কারও কণ্ঠের মান বিচারক হিসেবে তিনি অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষের চেয়ে দক্ষ। সমীরণ বাবুর কণ্ঠের উপদেশ তিনি ভেতর থেকে শুনেছেন। এবার ছেলেকে বললেন,
‘তোকে আগেই বলেছি, এবার শুনলি তো।’
পংকজ মল্লিক আর হেমন্তের গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্যে গোটা দশেক মুখস্থ করে ফেলেছে এরফান। মা বলতেন, ‘খুব ভাল শোনা যায় না।’
 
‘হ্যাঁ, ওস্তাদের কথা শুনতেই হবে। তবে মা, আমার খুব ইচ্ছে ছিল আমি ঐ লাইনে যাই।’
 
‘কিন্তু একটা কথা বলি?’
‘বল।’
‘কজন শুনে ঐ গান তোর ধারণা আছে?’
‘তা নেই।’
‘রাস্তা ঘাটে, বাসে, লঞ্চে কোন্ গান বেশি শোনা যায়?’
‘আধুনিক।’
‘তাহলে দুঃখ কি?’
‘কিন্তু সবাই বলে, তাঁর মত গীতিকার হয় না।’
 
‘ওটা সত্যি এবং ওটা বিচার করার সাধ্য আমার, তোর বা তোর ওস্তাদেরও নেই। কিন্তু খুব কম লোকে ওটা শোনে। আর জোরাজুরি করে গান হয় না।’
 
‘আমার গলায় কেমন শোনায়, মা বলতো?’
‘তেমন ভাল না। ওর চেয়ে আধুনিক আর উচ্চাঙ্গ অনেক ভাল শোনা যায়। বয়স হতে হতে এগুলো তোর গলায় আরো ভাল শোনাবে।’
 
শিশুমনের সংকল্প এমনিতেও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এরফান বেশ বুদ্ধিমান। মা আর ওস্তাদের বাধায় ও বুঝতে পারে পরামর্শটা ওর ভালর জন্য। ওস্তাদের খাতাটা খুলে বসে। পাতা উল্টায়। প্রথম কয়েকটা পৃষ্ঠা কিছুটা বুঝতে পারে। পরেরগুলি বেশ কঠিন মনে হয়।
 
প্রথম পৃষ্ঠায় সমীরণবাবুর নির্দেশনাটা যতœ করে পড়ে।
রাগ জয়জয়ন্তী/খেয়াল/ত্রিতাল
বাজে পায়েল ধুন বাজে ঝনন ঝন
আওয়াত মোরা ঘর বলমা সুদর্শন।
কংগনা খনকে বিন্দিয়া চমকে
আই মিলনকি র‌্যায়না সজন।
ও তবলচীর সঙ্গে সন্ধ্যার পর ওস্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী রেওয়াজ শুরু করে দেয়।
 
পরশুদিন ওর বাবা নতুন পোষ্টিং-এ জয়েন করবেন। এই সময়টাতে কঠোরদর্শন ওস্তাদের কয়েকটি কথা ওর মনে পড়তে থাকে। উনি বলেছিলেন এরফানের গলাটা প্রকৃতির দেয়া মিষ্টতায় ভরা। গলায় ভাইব্রেশন আছে। স্কেলও ঊঁচু, অনেকটা তালাৎ মাহমুদের মত। রেওয়াজ করে সেটিকে আরো সাবলীল, ষ্ট্যাবল এবং মসৃণ করা খুবই সম্ভব, তবে পুরুষালী ধরণের ভরাট, শক্তিশালী করা সম্ভব হবে না। সেটি জোর করে করতে চেষ্টা করলে গলার ক্ষতি হবে। যা হবার পুরো সম্ভাবনা আছে তাতে করে সেটিও নষ্ট হবে। ওস্তাদের এ মতামত দু’বছর আগের। যাবার সময়ও তিনি সেই কথাগুলি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এর আগে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্পর্কে অবশ্য তিনি কিছু বলেননি। এখন সেটিও স্পষ্ট করে দিলেন।
 
দু’বছর আগের কথার অর্থ ওর কাছে স্পষ্ট ছিল না। আজ তা পরিষ্কার হলো। সমীরণ বাবুর অননুকরণীয় জোরালো এবং মিষ্টি গলা ওকে আবিষ্ট করে রেখেছিল। আজ সেই ভক্তিতে একটু ছেদ পড়লো। তবে অভিমত ভিন্ন হলেও কোথায় যেন বুঝতে পারলো সমীরণ মুখার্জী ওর ভাল চান এবং তা গভীরভাবে। 
 
ওর বাবার সঙ্গে গান শেখানোর চুক্তি যে অর্থের যে অংকে হয়েছিল একমাস পরই তিনি তা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিলেন। ওর বাবা কারণটা জানতে চেয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
‘কি ব্যাপার, সবাই বেতন বাড়ায়, আপনি কমাচ্ছেন?’
‘গরু, গাধা যেগুলি সেগুলির পেছনে খাটতে হয়, আপনার ছেলেটি তা নয়।’
‘কি রকম? আমি তো গান বুঝি না শুনিও না।’
‘এখনো সময় হয়নি, তবে আমি পঁচিশ বছর ধরে ষ্টুডেন্ট পড়াচ্ছি। এরফানের মত পেয়েছি মাত্র তিন চারজনকে।’
‘কি রকম করবে ও বলুন তো?’
‘ওকে বলবেন না, তাতে হিতে বিপরীত না হলেও কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। ও খুব অল্প বয়সে এ গ্রেডের আর্টিষ্ট হবে এটা আমি নিশ্চিত।’
‘তাতে আপনার অবদানই তো সবচেয়ে বেশি, কাজেই আপনি বেতন কমাবেন কেন?’
 
‘পুরষ্কার হিসেবে। কারণ ওর পেছনে সময় ব্যয় করতেই হয় না। এত দ্রুত ক্যাচ করে ও একেকটা লেসন; আমি তো আধঘণ্টা সময় ব্যয় করি ওর জন্য। বাকি সময়টা আর একজন ছাত্রীকে পড়াই। আর একটা দিক খুব ভাল ওর। সেটা হলো ওর রুচীজ্ঞান। ওটা বেশ হাই। দেখবেন ও বাজে,  সস্তা, চটুল কোন গান করবে না।’
‘শুনে বড় ভাল লাগলো।’
 
‘জানেন দু’সপ্তাহ পার হবার পর ওকে বলেছিলাম ওর পছন্দমত একটা সুরলহরী ঠিক করে রাখতে। পরের সপ্তাহে এসে দেখি ও রাইচাঁদ বড়ালের একটা বই নিয়ে রেডি। এটা খুব ঊঁচু পর্যায়ের এবং বেশ কঠিন। অথচ আমি ভেবেছিলাম ও এর নামও শোনেনি হয়তো।’
 
বলাবাহুল্য এসব কথা এরফানের মা শুনছিলেন। কজন বাঙালির পেটে কথা থাকে? কাজেই এগুলো এরফানের কানে আসতে খুব বেশিদিন লাগেনি। তবে তা ওকে অহংকারী না করে ওস্তাদের প্রতি ওর শ্রদ্ধা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এখন সেটায় একটু টান পড়লো। 
 
বুদ্ধিমান মানুষরা অংক বোঝে ভাল। তাই কি নিয়ে কতটুকু সময় ব্যয় করতে হবে তা তারা বোঝে। বয়স কম হলেও এরফান সমীরণ বাবুর উপদেশকে নির্দেশ হিসেবেই মেনে চলতে থাকলো।
* * *
 

Specifications

  • বইয়ের লেখক: মাসুদ আহমেদ
  • আই.এস.বি.এন: ৯৮৪৪৩৩১১৬১
  • স্টকের অবস্থা: স্টক আছে
  • ছাড়কৃত মূল্য: ১১৫.০০ টাকা
  • বইয়ের মূল্য: ১৫০.০০ টাকা
  • সংস্করণ: দ্বিতীয় প্রকাশ
  • পৃষ্ঠা: ৬২
  • প্রকাশক: হাক্কানী পাবলিশার্স
  • মুদ্রণ / ছাপা: টেকনো বিডি ইন্টারন্যাশনাল
  • বাঁধাই: Hardback
  • বছর / সন: ডিসেম্বর ২০১২

Share this Book

Sky Poker review bettingy.com/sky-poker read at bettingy.com