মেঘমন্দ্র ধ্বনি

উ ॥ ৎ ॥ স ॥ র্গ

 
 

আমার দু’জন প্রিয় মানুষ

পিনু কাকা ও বিউটি কাকিকে

 

 

আমি দুটো দোকান ভাড়া নিয়ে সিএনজি’র পার্টস ইম্পোর্ট করে হোলসেলে বিক্রি করি। প্যান্ট শার্ট চাপিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। রাস্তায় নেমে দেখি পাশের একতলা হলুদ বাড়ির গেটের কাছে পুলিশের ভ্যান। একজন পুলিশ অফিসার ব্যস্ত হয়ে ওয়্যারলেস সেটে কথা বলছেন। চার-পাঁচজন কনস্টেবল পাশে দাঁড়িয়ে দাঁত বের করে হাসছেন। বেশ কিছু উৎসুক জনতা ভিড় করেছে। সবাইকে খুব আনন্দিত লাগছে। ঘটনাটা কি? চিন্তা করছি। পাশের বিল্ডিং-এর বাড়িওয়ালা সজ্জন মানুষ। যতদূর জানি বাড়ি বানানোর সময় ভদ্রলোক ওপি ওয়ান ভিসা পেয়ে যান। এক আবাসিক হোটেলের মালিককে বাড়ি ভাড়া দিয়ে বিদেশ পাড়ি জমান। অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না এমনটাই জানি। পাড়ায় সুনাম আছে।
 
খুন-খারাবি হয়েছে কি? অফিস বিশ মিনিটের সরু ঘিঞ্জি গলির হাঁটা পথ। রাস্তার ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আছি। রহস্যটা না জেনে নড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না। কোথাও রেইড হলে পুলিশ দাঁত বের করে হাসে না।
 
আরে মিঠু ভাই ! শ্যাম হোটেলে তো বিরাট খেলা চলতাছে। ঘটনা শুনছেন ? কাইয়ুম আমাকে দেখে ফার্মেসি থেকে বের হয়ে এলেন। উনি পুরান ঢাকার মানুষ। আমাদের বাসার নিচের দোকান ভাড়া নিয়েছেন। রিমঝিম ফার্মেসির মালিক। অল্প দিনেই বেশ ভাল ব্যবসা ফেঁদেছেন। 
 
না তো ! জটিল কিছু ঘটেছে নাকি! পুলিশ রেইড দিয়েছে? রহস্যটা জানার জন্য কাইয়ুমকে জিজ্ঞাস করি।
 
পুলিশের গাড়িটিই দেখলেন দাদা! পেছনের অ্যাম্বুলেন্সটায় নজর দিলেন না। কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটা দেখিয়ে কাইয়ুম দাঁত বের করে হাসে।
 
তাই তো! মার্ডার হয়েছে নাকি? হতভম্ব হয়ে বললাম।
 
হা হা হা ! আরে না। দুই ফরেন বাবা লইয়া ধরা খাইছে। কাইয়ুম মাথার টাক হাতাতে হাতাতে বলেন।
 
বিদেশী পর্যটক? বাবা! আপনার কথার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝছি না। এই মফস্বলে বিদেশী পর্যটক! ওর কথা শুনে হাসলাম।
 
আরে শোনেন। কাল দুই বিলাতি বাবু শ্যাম হোটেলে রুম ভাড়া নিছে। সবই ঠিক আছিলো। সকালে ঘরের দরজা অনেক বেলা ধইরা খুলে না দেইখা ম্যানেজার দাশু নকল চাবি দিয়া লক খুললো। কাইয়ুম ভাই একটানা কথা বলে শ্বাস নেয়ার জন্য থামলেন। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার কারণে তাঁর হাসিতে বাধা পড়ে।
 
ঘরে খারাপ কিছু দেখতে পেলো? কৌতূহলী হয়ে আবার জিজ্ঞাস করলাম।
 
দূর দূর। দাশু তো দরজা খুইলা হেটকা লাইগা গেল। দেখে দুই ফিরিংগি ন্যাংটা হইয়া ঘুমাইয়া আছে। চিন্তা করেন অবস্থাটা। পুরা নেংটা। মাল খইয়া বেহুশ! কথা বলার সুযোগ দিতে কাইয়ুম থামলো। প্রচণ্ড আনন্দে কিছুক্ষণ পরপর তার দাঁত বের হয়ে আসছে।        
                                    
এই জন্যই পুলিশ এসেছে? গাধা নাকি! খামোখা দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট হলো। বিরক্তি না লুকিয়ে কাইয়ুম ভাইকে বললাম।
 
জী না জনাব। পুরা ঘটনা শুনেন। দুই ফিরিঙ্গির মেশিন বাদে সারা শরীর মোটা টেপে পেঁচানো। দাশু লজ্জায় লগেলগে দরজা বুজাইয়া দিল। থানায় খবর দিলো।  তৃপ্তি নিয়ে কথাগুলো বলে কাইয়ুম রহস্য বাড়ানোর জন্য থামলো।
 
শরীরে টেপ প্যাঁচানো কেন ? ঝেড়ে কাশুন তো ভাই।
 
হেঃ হেঃ শরীরে টেপ প্যাঁচাইয়া বিদেশ থেইকা বাবা আনছে। বাবার বিরাট চালান লইয়া ধরা খাইছে। উত্তেজিত কাইয়ুমের মুখের থুতুর ঝাটকা মুখে এসে পড়ল।
 
আবার বাবা ! বার বার ‘বাবা’ বলছেন। আচ্ছা এই বাবাটা কে ? পকেট থাকে টিসু বের করে মুখ মুছতে মুছতে বিরক্তি লুকালাম না।
 
বাবা বুঝলেন না ? ইয়াবা বড়ি। ওই দেখেন পাঁঠার মতন চিল্লাইতাছে। শব্দ শুনতাছেন? উত্তেজনায় আমাকে ঝাঁকি দেয় কাইয়ুম। 
 
কোন মতে রাস্তায় পড়ে যাওয়া থেকে নিজেকে সামলালাম।
 
শ্যাম হোটেলের ভিতর থেকে প্রচন্ড আর্তচিৎকারের শব্দ আসছে।
 
সে কি। মারছে নাকি ? দ্বিধান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করি।
 
আরে না না। ফিরিঙ্গির শরীরের প্যাঁচানো টেপ টাইনা খুলতাছে। এলসেসিয়ান কুত্তার মতন শরীর ভর্তি পশম। ব্যথায় চিল্লাইতাছে। একটারে অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা চলতাছে। ভাববার পারেন প্রথমটার শরীর থেইকা সাত হাজার পিস ইয়াবা পাইছে।
 
কাইয়ুম ভাইয়ের কাছ থেকে ঘটনা শুনে চমৎকৃত হলাম। ইতোমধ্যে বেশ কিছু টিভি চ্যানেলের গাড়ি এসে গেছে। হট্টগোল থেকে সরে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দোকানের পথে হাঁটা দিলাম। এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কোন মানে হয় না। খামোখা সময় নষ্ট করলাম। 
 
এই শহরে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। শহরতলীতেও সব কিছুই দ্রুত পাল্টাচ্ছে। অনেক দ্রুত।
 

Specifications

  • বইয়ের লেখক: মাহাবুব-উর-রসিদ
  • আই.এস.বি.এন: ৯৮৪৭০২১৪০১০১৩
  • স্টকের অবস্থা: স্টক আছে
  • ছাড়কৃত মূল্য: ১০৫.০০ টাকা
  • বইয়ের মূল্য: ১৪০.০০ টাকা
  • সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ
  • পৃষ্ঠা: ৬০
  • প্রকাশক: হাক্কানী পাবলিশার্স
  • মুদ্রণ / ছাপা: ডট নেট লিমিটেড
  • বাঁধাই: Hardback
  • বছর / সন: ফেব্রূয়ারী -২০১৪

Share this Book

Sky Poker review bettingy.com/sky-poker read at bettingy.com