ভাদাইমমা হারুমানুষ কথা

উ  ৎ  স  র্গ

 

এই সময়ের সব হারুমানুষের

উদ্দেশে

 
 
 
 

এই লেখকের

  • শংকর রহস্য (কিশোর গল্প সংকলন)
  • অনলাইন ঘোস্ট (কিশোর গল্প সংকলন)
 
 

ভূমিকা

 
 
ওরা ভাদাইমমা। ওরা হারুমানুষ। ফেল্টুস সব। ভবিষ্যৎ ধোঁয়াশা। কোথা থেকে শুরু করবে, কি করবে ঠিক বুঝতে পারে না। চার দিকে যা দেখে সবই ভালো লাগে। আবার ভয়ও লাগে। কি এক অদ্ভুত বিহ্বলতা। কেউ কেউ তাই দার্শনিক হয়ে যায়। কেউ হয়ে যায় উদ্ভটানন্দ। যারা সার্থকতার দাবীদার তারা অবাক হয়ে দেখে এদের। ভবিষ্যৎ নিয়ে হয় উদ্বিগ্ন। ভাবে, কোনও আশা নেই এদের। এরকম কতিপয় যুবকের কথা দুই মলাটের মধ্যে বিবৃত করেছেন মাহবুব তার ভাদাইমমা উপন্যাসে।
 
 
 
 

 

 
দাদা ছিলেন নাট্যকার। নাটক লেখা, পরিচালনা এবং অভিনয় সবই করেছেন। স¦াধীনতা পুর্ব বাংলাদেশের সম্ভবতঃ খুব কমই গ্রাম ছিলো যেখানে ‘উদয়নালা’ মঞ্চায়িত হয়নি।
 
বাপ-চাচারা সাংবাদিকতা এবং লেখালেখির চর্চায় নিবেদিত।
 
এই ধারাবাহিকতায় মাহাবুব-উর-রসিদ তৃতীয় প্রজন্মের লেখক।
 
 

 

 
 
ঘরে খক্ খক্ করে কেউ কাশছেন। টেবিলের পাশে রাখা চেয়ারে কেউ বসেছেন। মটকা মেরে খাটে শুয়ে আছি। জানান দিতে চাচ্ছি না জেগে আছি। 
 
খক্ খক্  ... খক্  ...খক্  ... ------ খক্ -- খক্ ---- খক্ --খক্
 
চোখ বন্ধ করে বোঝার চেষ্টা করছি মালটা কে? সাইলেন্সার পাইপ ছাড়া হোন্ডার মত বিকট শব্দ করে কাশছেন। ভদ্রলোক কি আমার পরিচিত ? কান ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে।   
 
এই জহির। খক্---খক্। তুমি কি ঘুমাচ্ছো ? 
 
কেউ মনে হয় খাটে ঝুঁকে এসে মাথায় খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
 
মটকা মারা অবস্থায় প্রাণপন চেষ্টা করছি ঠোঁট দুটো নিয়ন্ত্রণ করতে। পাকস্থলি থেকে পাঁজর হয়ে তিব্র বেগে ‘মাতারির পুত। অন্ধ নাকি ?’ শব্দগুলো কন্ঠনালি দিয়ে বেরোনোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
 
একজন ঘুমন্ত মানুষকে জিজ্ঞেস করছে তুমি কি ঘুমাচ্ছ ? আশ্চার্য !  সাড়া-শব্দ করলাম না। চোখ বন্ধ অবস্থায় ভাবছি নির্বোধ শ্রেণীর লোকটি কে হতে পারে ?
 
আরে ভাই শব্দ করনা কেন ? মারা গেছ নাকি ?
 
মাথায় জোরে ঝাঁকি দিয়ে অস্থির হয়ে ওঠেন ভদ্রলোক। 
 
চোখ বন্ধ অবস্থায় রাগে হাতের মুঠি দুটো শক্ত হয়ে গেলো। নিয়মিত যোগাসন করি। দ্রুত মেজাজটা নিয়ন্ত্রণ করলাম। কিন্তু মুখটা আটকাতে পারলাম না। চোখ বন্ধ অবস্থাতেই হাঃ হাঃ করে হাসা শুরু করলাম। স্পষ্ট বুঝলাম কেউ সামনে থেকে লাফ দিয়ে দুহাত পিছনে সরে গেছেন।
 
চোখ খুললাম। মাথা ঘুরিয়ে চার হাত দুরে আতঙ্কিত মাইনুদ্দিন ভাইকে দেখে অবাক হলাম। একি স¦াস্থ্যের অবস্থা। জীবন্ত কঙ্কাল। দু’পা থর থর করে কাঁপছে। দুঃখিত গলায় বললাম,
 
মাইনু ভাই!  দাঁড়িয়ে আছেন কেন? চেয়ারে বসেন। 
 
আরেকটু হলেই হার্ট ফেল করতাম। চেয়ারে বসে টেবিলে রাখা পানির গ্লাস এক চুমুকে খালি করে ফেললেন মাইনু। 
 
কখন এসেছেন ? শরীর অসুস্থ নাকি? 
 
আর বলো না। রাজ রোগ ধরেছে। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল যাবো। ভাবলাম তোমাদের বাসায় ঢুঁ দিয়ে যাই।
 
ভাল করেছেন। 
 
এবার বলো তুমি কেমন আছো ? দুনিয়ার ভাও ধরতে পারলে? চাকরি-বাকরি কিছু করছো ?
 
মাইনু ভাই চেয়ারে বসে দুপা  কাঁপা থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
 
নারে ভাই! বেকার আছি। জীবনের মানে বুঝার চেষ্টা করছি।
 
সে কি? এখনো মুদি দোকানে বসে আড্ডা মারো?
 
হ্যাঁ! ফুটপাতে মানুষ দেখি। পান চাবাই। ভাবি। 
 
ভাবো! কি ভাবো? জীবনের মানে? কৌতুহলী হয়ে ঝুঁকে ফিস্ ফিস্ করে বললেন মাইনু ভাই। 
 
না! না! অনেক কিছু ভাবি। কিন্তু ধরতে পারি না। পিছলে যায়। সব অতি দ্রুত ঘটে। অনেক দ্রুত।
 
হু! এইটা রাখ। রাতে টান দিয়ে দেখবা। সব খাপে খাপে মিল খাচেছ। আমি আসি। দশটায় ডাক্তারের চে¤¦ারে হাজির থাকতে হবে। খোদা হাফেজ।
 
মাইনু ভাই কথা বলার সুযোগ না দিয়ে এলোমেলো পাঁয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।
 
বিছানায় শুয়ে ল¤¦া হাই তুললাম।
 
সিগারেটটা নাড়া-চাড়া করে নিশ্চিত হলাম এতে গাঁজা ঠাঁসা। বুঝতে অসুবিধা হলনা কেন মাইনু ভাইয়ের যক্ষা হয়েছে।
 
ডাইনিং রুমের টেবিলে বসে আটা রুটি দিয়ে ডিমপোচ খাচ্ছি। ভাবছি সারা দিন কি কি করবো। যাকে বলে একেবারে ছক কষে ভাবা।
 
এই জহির। মাইনু এসেছিল। তোর সাথে দেখা হয়েছে? মা ভেতরের রুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
তুমি এমন হাসছো কেন মজার কিছু ঘটেছে নাকি ?
 
আগে বল মাইনুর সাথে তোর দেখা হয়েছে ? তোকে খুঁজছিল। 
 
মা সবুজ শাড়ী পরেছেন। তাকে সুখি সুখি লাগছে। হাতের  আঙ্গুলের চুন মুখে নিয়ে বললেন।
 
হ্যাঁ! দেখা হয়েছে। ওঁর যক্ষা হয়েছে। এখন বক্ষব্যাধি হাসপাতালে গেছেন। 
 
আরে দূর দূর! তোকে লজ্জায় সত্যি কথা বলেনি। মা শরীর দুলিয়ে হাসছেন। প্রচন্ড হাসিতে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। শরীর থরথর করে কাঁপছে।
 
এতো হাসছো কেন ? আমার নাস্তা হয়ে গেছে। উঠলাম। 
 
একটু বস্। খুলে বলছি। শোন্! কিছু দিন আগে মাইনু কোথা থেকে খোঁজ পায় গরুর মোটা হওয়ার ওষুধ খেলে স¦াস্থ্য ভালো হয়। কাউকে কিছু না বলে ঢাকার কাওরান বাজার থেকে এক কোর্স গরুর ওষুধ কেনে। পনের দিন খাওয়ার পর বুঝতে পারে দ্রুত শরীরের ওজন হারাচ্ছে। ওর অবস্থা দেখেছিস? হাঃহাঃহাঃ! অবিকল টিকটিকির মতন দেখতে হয়েছে।
 
সে কি কথা ? আজব  তো! হতভ¤¦ হয়ে বললাম।  
 
তোর বাবা তো মাইনুকে বলেই ফেললো গরুর ওষুধ খেয়েছ কেন? তুমি কি গরু? ঘাস খাও? তোমার তো মনে হচ্ছে মানসিক সমস্যা আছে। পাগলের ডাক্তার দেখানোর দরকার।
 
শরীর দুলিয়ে হাসতে হাসতে মা চেয়ার ভেঙ্গে পড়ে গেলেন। আমি সময় মত ধরে ফেলায় কোন  ব্যাথা পেলেন না। ফ্লোরে বসেই আবার হাসতে শুরু করলেন।
 
চুপ! চুপ! হাসি থামাও। তোমারও গরুর ওষুধ খাওয়া দরকার। চেয়ার ভেঙ্গে পড়ে গেছো তারপরও হাসছ ?। হিস্ হিস্ করে বললাম।
 
আমাকে গরুর ওষুধ খেতে বলছিস? তাইতো! স­ীম হওয়া যাবে। মাইনুর মতন। মা নিম রাজি হয়ে ভেবে জিজ্ঞেস করলেন।  
 
চুপ করো ! আমাকে একশ টাকা দাও। বাইরে বেরোতে হবে। 
 
তোর কি মনে হয়? গরুর ওষধ খেলে সত্যি স­ীম হওয়া যাবে ? মা শাড়ীর আঁচল খুলে একশ টাকা দিয়ে সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
 
ভেবে দেখি। রাতে ফিরে জানাবো। কেউ আমার খোঁজে এলে বলো কালিয়ার দোকানে আমাকে পাওয়া যাবে।
মাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত সিঁড়ির পথে হাঁটা দিলাম। 
 

Specifications

  • বইয়ের লেখক: মাহাবুব-উর-রসিদ
  • আই.এস.বি.এন: ৯৮৪৭০২১৪০০৮৯৯
  • স্টকের অবস্থা: স্টক আছে
  • ছাড়কৃত মূল্য: ১১৫.০০ টাকা
  • বইয়ের মূল্য: ১৫০.০০ টাকা
  • সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ
  • পৃষ্ঠা: ৬৮
  • প্রকাশক: হাক্কানী পাবলিশার্স
  • মুদ্রণ / ছাপা: টেকনো বিডি ইন্টারন্যাশনাল
  • বাঁধাই: Hardback
  • বছর / সন: ফেব্রুয়ারি-২০১৩

Share this Book

Sky Poker review bettingy.com/sky-poker read at bettingy.com