বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫

উ ৎ স র্গ

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি
বাংলাদেশের স্থপতি
জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর
পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ

 

 

মুখবন্ধ

বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫ আমার দ্বিতীয় গ্রন্থ। আমার প্র ম গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। গ্রন্থটি প্রকাশ পাওয়ার পর বিভিনড়ব মহলে প্রভূত আগ্রহ লক্ষ করি। বলাই বাহুল্য, এই ইতিবাচক প্রতিμিয়ায় আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ সরকার-সংμান্ত বিষয়াদি গ্রন্থাকারে প্রকাশে উৎসাহিত হই। ব্যস্ততার মাঝে লেখা লেখিতে সময় দিতে না পারলেও জাতীয় বিশেষবিে শষ দিবস উপলক্ষে কিংবা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বিষয়াদির ওপর আমার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে নিবন্ধ-প্রবন্ধ লেখার অভ্যাস অব্যাহত রেখেছি। তাছাড়া সভা-সেমিনারেও দেশ, জাতি, সংস্কৃতি, সরকারের প্রশাসনিক বিষয়াদিতে আমার অভিজ্ঞতালব্ধ অভিমত ব্যক্ত করেছি।
 
প্রসঙ্গত, আমার প্র ম প্রকাশিত গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু কথা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সরকারের প্রশাসনিক সার্বিক কর্মসূচি, কর্মকা- ও কর্মধারা সম্বন্ধে প্র ম গ্রন্থে বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। বইটির অবয়ব বৃহৎ না হলেও এতে অসংখ্য মূল্যবান ঐতিহাসিক তথ্য সনিড়ববেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভূখ-ে সংঘটিত সব ঘটনা গ্রন্থের সীমিত পরিসরে উল্লেখিত হয়নি বটে, তবে ওই গ্রন্থের বিষয়বস্তু থেকে যেকোনো গবেষক, ইতিহাসবিদ, অনুসন্ধিৎসু পাঠক ও শিক্ষার্থি তাঁদের দেশ, মানুষ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জনগণের জীবিকা নির্বাহের প্রধান প্রধান উৎস ইত্যাদির পরিচয় পাবেন। পলি-বিধৌত এই ভূখ-ের জনগণের মনে স্বাধীনতার স্বপড়ব কীভাবে কখন চূড়ান্ত রূপ পেল, তার তথ্যও ওই গ্রন্থে বিবৃত বিষয়বস্তুতে রয়েছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে কোন্ মহান নেতা জনপদের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল তার প্রমাণও গ্রন্থে রয়েছে। আমি গর্ববোধ করি এই ভেবে যে, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে আমি বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পক্ষ এবং এদেশীয় দালাল-চμান্তকারীদের হাতে ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে সপরিবারে নৃশংসভাবে নিহত হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ও জনজীবনে চরম সংকট নেমে আসে। স্বাধীনতাবিরোধী চμ আমাকে কারাভ্যন্তরে ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আটক করে রাখে। মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান সরকারে এবং মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্ভিসে আমার অবস্থান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংগঠনে আমার ভূমিকা, পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তাঁর সুযোগ্য সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী, এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান প্রমুখের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যে বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল- সেই বাংলাদেশের দুর্দশা দেখে আমি মর্মাহত ও ব্যথিত হই। প্র ম গ্রন্থ রচনার কাজ বিলম্বিত হলেও দেশ ও জাতির কাছে আমার ঋণ পরিশোধের তাগিদ থেকে তা শেষ করেছিলাম এবং তা প্রকাশিত হয়েছে। প্র ম গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিনড়ব মহলে এর সমাদর লক্ষ করি।
 
 
আমি অনুভব করি, বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর স্বাধীন ভূখ-ের রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত সরকারের কর্মযজ্ঞ কীভাবে কতটা প্রতিকূলতার মাঝে পরিচালিত হয়েছে, সেসব ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখযোগ্য বিবরণ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়া জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে বহু প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গ্রন্থ, সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। এসব লেখায় বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস কিংবা প্রামাণ্য তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পাওয়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুষ্কর। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১-৭৫ বাংলাদেশ সরকারের কর্মযজ্ঞের ঐতিহাসিক তথ্যকে কীভাবে বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, সেসব ইতিবৃত্ত আর উল্লেখ করতে চাই না। জতি-বিরোধী অপশক্তির এইসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিনিয়তই সোচ্চার ছিল বলেই বর্তমানে তাদের কবল থেকে বাংলাদেশের প্রশাসনকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং মানবতাবিরোধী কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে কেন ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছিল, সেই যুদ্ধে দেশের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ কী, জাতি কীভাবে সেই মরণপণ যুদ্ধে জয়ী হয়, সেসবের বিবরণ সংবলিত তথ্য ও দলিল সরকারিভাবে ১৯৮২ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খ-ে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ (দলিলপত্র)” নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত এসব খ-কে বাংলাদেশের ইতিহাসগ্রন্থ বলা যাবে না। তবে, এসব খ-ে বাংলাদেশের ইতিহাসের উপাত্ত-উপাদান রয়েছে। গবেষক, ইতিহাস-লেখকদের কাছে স্বাধীনতার দলিল গ্রন্থের খ-গুলো অসামান্য মূল্যবান তথ্যসমৃদ্ধ ভা-াররূপে পরিগণিত এবং সহায়ক।
 
 
স্বাধীনতার পর রচিত এবং প্রকাশিত শত-সহস্র গ্রন্থ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ থাকা সত্ত্বেও আমি আমার দ্বিতীয় গ্রন্থ “বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫” রচনার তাগিদ কেন অনুভব করলাম তা সংক্ষেপে উল্লেখ করা প্রয়োজন। উপর্যুক্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ (দলিলপত্র) খ-গুলোতে যেসব প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত রয়েছে, সেগুলো দেশের মুক্তিযুদ্ধোত্তর সাধারণ মানুষকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে জানানোর উল্লেখযোগ্য কোনো রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। তবে কিছু দেশপ্রেমী লেখক-সাংবাদিক, গ্রন্থকার কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষক এসব খ- থেকে উপাদান নিয়ে তাদের বক্তব্য-বিবৃতি কিংবা প্রবন্ধনিবন্ধ গণমাধ্যম, সভা-সেমিনারে উপস্থাপন করেন। পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য বিকৃত করার চμান্ত করেছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর থেকে খুনিচμ এবং তাদের দোসর। আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম বিশেষত ১৯৭৫ সালের আগস্ট-পরবর্তী প্রজন্মের সামনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষণা, বিজয় দিবস, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বঙ্গবন্ধু হত্যা, কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা প্রভৃতি সম্বন্ধে বিকৃতভাবে তথ্য তুলে ধরার অপচেষ্টা চলেছে। এই প্রজন্মের মন থেকে বিভ্রান্তি দূর করা না হলে বাঙালি জাতি অমানিশার অতলে নিমজ্জিত হবে, এমন আশঙ্কা আমার।
 
 
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে থেকে রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত কাছে থেকে নিবিড়ভাবে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাঁর আন্তরিক ও উষ্ণ সানিড়বধ্য পেয়ে আমি নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমার মতো আরো অনেক সহকর্মীই তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে রফিকুল্লাহ চৌধুরী, তোয়াব খান, মনোয়ারুল ইসলাম, কাজী হাবিবুল হক, মনসুর আহমদ, ড. সাত্তার, ড. মসিউর রহমান, ড. ফরাসউদ্দিন প্রমুখের নাম আমার স্মৃতির মণিকোঠায় সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। এসব গুণী ব্যক্তির সাথে বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ হানিফ প্রমুখের কথা ভুলতে পারি না। তুখোড় বক্তা ও ছাত্রনেতা স্বাধীনতা-সংগ্রামের অগ্রনায়ক হিসেবে তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সানিড়বধ্য লাভ করেছিলেন। এঁরা আমাকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের কর্মকা- লিপিবদ্ধ করে প্রকাশ করতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। এ জন্য তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। আমার প্র ম গ্রন্থে ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিনড়ব ঘটনা, সরকার পরিচালনা, পৃথিবীর গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, স্বীকৃতি আদায় প্রভৃতি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন, রাজধানী ঢাকায় সরকার পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর অংশগ্রহণ, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ, সংবিধান প্রণয়ন, ভারতীয় সৈন্যদের দেশে ফেরত পাঠানো, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র ফেরতসহ ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পরিচয়-পরিচিতি, প্রশাসনব্যবস্থা, কর্মসূচি কর্মকা-, সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলির প্রভাব ইত্যাদি বর্তমান প্রজন্মের কাছে কৌশলে তিন দশকের বেশিকাল যাবৎ ষড়যন্ত্রকারীরা আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
 
 
বর্তমান প্রজন্মের সামনে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনাবলির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আবশ্যকতা আমি আমার প্র ম গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ভাবছিলাম। দ্বিতীয় গ্রন্থের বিষয়বস্তুর একটি ছক মনে গেঁথে রেখেছিলাম। বাংলাদেশে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভয়াবহ জঙ্গিবাদের উত্থান, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর অপতৎপরতা, স্বাধীনতাবিরোধী চμের সাথে সামরিক ছাউনির কিছু কর্মকর্তার দহরমমহরম, সন্ত্রাসী ও ভ্রান্ত রাজনৈতিক মতবাদের লোকজন নিয়ে দল গঠন, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে পদদলিত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং লুটপাট, অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ইত্যাদি কুকাজ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণড়ব হওয়ায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন। এই সরকার দুই বছর স্থায়ী ছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫ নামক আমার বর্তমান গ্রন্থের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এই সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব লাভ করে আমি এই গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করি। সরকারি গুরুদায়িত্ব পালনের সঙ্গে গ্রন্থ রচনার কাজ চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হলেও জীবনসায়াহ্নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তথ্যনির্ভর এবং প্রকৃত ঘটনাবলির বিবরণ দিতে চেষ্টা করছি, এ কথা মনে রেখে উদ্বুদ্ধ হই। উপদেষ্টা পদের দায়িত্ব গ্রহণের পর যখনই একটু অবসর বা সময় পেয়েছি তখনই পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রন্থের অধ্যায়গুলো বিন্যাস করে লিখেছি। কখনো কখনো সহযোগীর সহায়তা নিয়েছি। তাঁদের কখনো মুখে মুখে বলেছি কিংবা কখনো কম্পিউটারের পাশে বসে সহযোগীকে বলে গেছি তাঁরা লিখেছেন অথবা সরাসরি কম্পিউটারে অপারেট করেছেন। এভাবে এই গ্রন্থের মোট পনেরোটি অধ্যায় রচিত হয়েছে। গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত সংবলিত মোট ৫৭টি পরিশিষ্ট মূলপাঠের (Text-এর) সঙ্গে সংযোজিত হয়েছে। এই গ্রন্থে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আমলে পৃথিবীর বিভিনড়ব রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধানসহ বহু সমকালীন রাজনৈতিক প্রখ্যাত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎ-মুহূর্তসহ সরকারি নীতিনির্ধারণী বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা, চুক্তিস্বাক্ষর, সরকারি সফরের বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র সংযোজিত হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদ অধিবেশনের চিত্র, বাংলাদেশ সরকারের প্র ম বাজেট পেশ সম্পর্কিত চিত্র, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের চিত্র, নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গের আলোকচিত্র, সময়কালে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক শপথগ্রহণের দৃশ্যের ছবি, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণের চিত্র, চট্টগ্রাম বেতবুনিয়া ভূউপগ্রহকেন্দ্র উদ্বোধনের চিত্রসহ ৯৮টি আলোকচিত্র এই গ্রন্থের আকর্ষণীয় অংশ। কথায় আছে, একশ শব্দে যে বিষয় প্রকাশ করা কষ্টকর তা একটিমাত্র আলোকচিত্রে সহজেই প্রকাশিত হয়। এজন্যই সংযোজিত আলোকচিত্রগুলোর মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।
 
 
গবেষকগণ, প্রবন্ধকারবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এমনকি সাধারণ পাঠককুলের সামনে এসব অভ্রান্ত তথ্যসমৃদ্ধ পরিশিষ্ট গুরুত্ববহ হয়ে উঠবে এমন আশা করি। গ্রন্থের সব অধ্যায়ে যা লিপিবদ্ধ করেছি তা মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের একজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ বিবরণ।
 
 
স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় শীর্ষক প্র ম অধ্যায়ে বাঙালি জাতির রাষ্ট্র, প্র ম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর), রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যμম এবং জনযুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় বিধৃত হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায় হানাদারমুক্ত বাংলাদেশে বাংলাদেশ সরকার নামে রচিত। এই অধ্যায়ে রয়েছে মুক্ত বাংলাদেশে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ, রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার, ঢাকায় প্র ম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও দফতর পুনর্বণ্টন, ১৯৭২-এর জানুয়ারির প্র ম ১০ দিন সরকারের বিভিনড়ব উদ্যম ও কার্যμম এবং জাতীয় মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের পটভূমি ও এই লক্ষ্যে সরকারের ঘোষণাসহ জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গঠন করে সারা দেশের জেলা ও মহকুমায় জাতীয় মিলিশিয়া শিবির স্থাপন সম্পর্কে তথ্য। তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। বাঙালি জাতিকে দমনে পাকিস্তান সামরিক শাসকবৃন্দ যে অপচেষ্টা চালায় তার কিছু চিত্র, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পটভূমি, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করায় বিশ্বনেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের উৎকণ্ঠা, মুজিবকে হত্যার লক্ষ্যে প্রহসনমূলক বিচার, মাতৃভূমির পবিত্র মাটিতে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্ত স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়াদি বর্ণিত হয়েছে এই অংশে। রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু : স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ নামক চতুর্  অধ্যায়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রসমর্পণ, সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্র ম কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় রাষ্ট্রীয় চার নীতির ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার, জাতীয়করণ নীতি, সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধুর আহ্বান এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের মূল্যায়নসহ বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপরিচালনায় অনন্যসাধারণ ব্যবস্থাদি গ্রহণের বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপড়ব : সরকারের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নামক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত পঞ্চম অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর সোনার বাংলা গড়ার স্বপড়ব বাস্তবায়নের জন্য যেসব মূল্যবান সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তদনুযায়ী ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাংলাদেশের পুনর্গঠন কাজ হাতে নিয়েছিলেন তার বিশদ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পরিচিতিমূলক পতাকা আইন, জাতীয় সংগীত, জাতীয় প্রতীক আইন ইত্যাদির বিবরণ, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের বৃত্তান্ত, প্রণীত ও অনুমোদিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্য, প্র ম সাধারণ নির্বাচনসহ অনেকগুলো সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা এই অধ্যায়ে করা হয়েছে।
 
 
গ্রন্থের দেশ পুনর্গঠনে সরকারের প্রারম্ভিক কর্মসূচি শীর্ষক ষষ্ঠ অধ্যায়ে কীভাবে সাহসিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সরকার যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নিয়ে তৎকালে বিদ্যমান প্রকট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এবং সরকারি খাতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করে দেশের উল্লেখযোগ্য উনড়বয়ন সাধনে সক্ষম হয় তা বর্ণিত হয়েছে। সপ্তম অধ্যায়ের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস। এই অধ্যায়ে বাঙালি জাতির ম্যাগনাকার্টা হিসেবে পরিগণিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রচারের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধি যাঁরা আন্তর্জাতিক পরিম-লে গ্রহণীয় তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা, তাঁদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তμমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়াদিসহ প্রশাসন পুনর্বিন্যাস কমিটি, চাকরি পুনর্বিন্যাস কমিশন এবং জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের বিবরণ আছে। এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য অষ্টম অধ্যায়ের শিরোনাম আধুনিক সার্বভৌম জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা। এই অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, বঙ্গবন্ধু যে সরকার প্রবর্তন করেছিলেন তাতে সরকারপদ্ধতি, কার্যপ্রণালী, কার্যবণ্টন ও কার্যপরিচালনা বিধি, জাতীয় সরকার গঠনকালে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা, সরকারের বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি, মুক্তিযোদ্ধাদের দেশগড়ার কাজে আহ্বান, রাষ্ট্রীয় মূল নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা, জাতীয়করণ কর্মসূচি, গ্রামীণ ও নগরজীবনের বৈষম্য দূরীকরণে পদক্ষেপ, দলীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুর নীতিনির্ধারণী ভাষণ, জাতীয় সরকার গঠনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্র ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৮৭৩-৭৮) প্রণয়ন বাংলাদেশ সরকারের এক মাইলফলক। এ সম্বন্ধে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্র ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নামীয় নবম অধ্যায়ে পরিকল্পনার পটভূমিসহ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশের প্র ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দেশের প্র ম অর্থনৈতিক দলিল। গ্রন্থে সনিড়ববেশিত দশম, একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ অধ্যায়গুলোতে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা, সরকারের কর্মসূচি, মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-অধিদপ্তর সৃষ্টি, পররাষ্ট্রনীতি, গণমুখী শিক্ষানীতি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এই গ্রন্থের চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ অধ্যায় দুটির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, সরকার উৎখাতে দেশি-বিদেশি যেসব ষড়যন্ত্র হয়েছিল তার বিশদ তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানানোর প্রচেষ্টা সরকার উৎখাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শীর্ষক চতুর্দশ অধ্যায়ে আছে। পঞ্চদশ অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তার ফসল জাতীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠনের ইতিবৃত্ত রয়েছে। গ্রন্থের প্রত্যেক অধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার নিচে পাদটীকায় উল্লেখিত ঐতিহাসিক, অতীত এবং বর্তমান কালের তথ্য-উপাত্ত এবং মুক্তিযুদ্ধকালে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য- প্রমাণ যাচাইয়ে সহায়ক হওয়ায় দৃঢ় আস্থার সঙ্গে পা-ুলিপি প্রণয়ন করতে পেরেছি। এজন্য আমি দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, সরকারি প্রজ্ঞাপন, স্মারক, অফিস-নির্দেশ সম্পর্কিত দলিলপত্রের নমুনাকপি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়, লেখক, অনুবাদক, সঙ্কলক প্রমুখের উদ্দেশে আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গ্রন্থটিকে তথ্যনির্ভর ও নির্ভুল করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
 
 
প্র ানুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে চাই। প্র মেই ধন্যবাদ জানাই সেই সব পাঠক, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, অধ্যাপক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীকে যাঁরা আমার প্র ম গ্রন্থটি প্রকাশিত হতে দেখে এই দ্বিতীয় গ্রন্থ লেখার জন্য তাগিদ দিয়েছিলেন। তাদের অনুপ্রেরণা আমাকে এই গ্রন্থ রচনায় আরো উদ্বুদ্ধ করেছে।প্রকৃতপক্ষে এই গ্রন্থ লেখার প্র ম ও প্রধান উৎসাহদাত্রী ছিলেন আমার জানড়বাতবাসিনী স্ত্রী ইসমাৎ ইমাম। মুক্তিযুদ্ধকালের সেই ভয়াবহ দুঃসময়ে তিনি শুধু সংসার আগলেই রাখেননি, তখন তিনি আমার প্রতিটি কাজে উৎসাহ দিয়ে আমাকে অটুট মনোবলের অধিকারী করে রেখেছিলেন। সে সময় তিনি আমাকে তাগিদ দিতেন মুক্তিযুদ্ধসংμান্তসব তথ্য, নথি, পত্রপত্রিকা, অফিস-স্মারকের কপি, মন্ত্রিসভা, পরিষদ ইত্যাদি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সুপারিশ যেন আমি গুছিয়ে সংরক্ষণ করি। সংরক্ষিত দলিল-দস্তাবেজ এবং উপাত্ত-উপাদানের ভিত্তিতে লেখা গ্রন্থ বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় সহায়ক হবে এমন কথা মনে রেখে আমার স্ত্রী সব কিছু গুছিয়ে রাখতে বলতেন, এ কথা ভাবলে আমার মন তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। সংরক্ষণ কাজে তিনিও আমাকে যে-সহায়তা করেছিলেন তা আমি আজো কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই তিনি বই লেখার তাগিদ দিয়ে আমাকে ব্যস্ত রাখতেন। তাঁর এসব অনুপ্রেরণামূলক অভিপ্রায় এবং তাগিদের কথা আমার প্র ম গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-এ “আমার কথা” শীর্ষক অধ্যায়ে প্রকাশ করেছি। স্বাধীনতার পরমুহূর্ত থেকে লেখার কাজ শুরু করলেও আমার প্র ম গ্রন্থটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। আমার সহধর্মিণীর সাধ আমি তাঁর জীবদ্দশায় পূরণ করতে পারিনি, এ দুঃখবোধ আমার কোনো দিনই মুছবে না। তিনি ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ধরণী থেকে চিরবিদায় নেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমি প্র ম পর্যায়ে বইটি ইংরেজি ভাষায় লেখা শুরু করেছিলাম। এজন্য আমার বেশ কয়েক বছর সময় কেটে যায়। পরে বাংলা ভাষায় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকা- নিয়ে লিখি যা স্বাধীনতার তেত্রিশ বছর পর প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫ নামক গ্রন্থটির পা-ুলিপি প্রণয়নকালে প্রয়াত সহধর্মিণীর শূন্যতা অনূভব করছি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় দিনগুলোয় বাংলাদেশ সরকারের কর্মকা-ের বিষয় নোট করে রাখতে তাঁর পরামর্শের কথা প্রতিটি মুহূর্তে মনে পড়েছে। বর্তমান গ্রন্থের পা-ুলিপি প্রণয়নেও আমার প্রায় চার বছর সময় লেগেছে। আমার দ্বিতীয় গ্রন্থের প্রকাশনা তাঁর প্রয়াণের বারো বছর পর সম্পনড়ব করতে পেরে তাঁর অতৃপ্ত আত্মার প্রতি সম্মান জানাতে পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস। গত বছর (২০১২ সালে) ১১ ডিসেম্বর তাঁর প্রয়াণের দ্বাদশ বর্ষ স্মরণ করে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণাদায়িনী আমার স্ত্রীকে আবার স্মরণ করেছি। আমার স্ত্রী ইসমাৎ, আমাদের ছেলে তানভীর, মেয়ে মুনমুন, মিতু ও মুক্তির কথা এই গ্রন্থ দুটি রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে থাকবে এ কথা আমি পরিবারের প্রধান হিসেবে অকপটে স্মরণ করি। মুক্তিযুদ্ধকালে সেসব কষ্টের দিনে ছেলেমেয়েরা আমাকে যেভাবে আদরযতেড়ব আচ্ছনড়ব করে রেখেছিল, ঠিক তেমনিভাবে তারা এ দুটি গ্রন্থের পা-ুলিপি প্রণয়নের দিনগুলোতেও অনাবিল আনন্দময় পরিবেশে আমাকে আপ্লুত করেছিল। বই দুটি প্রকাশের সঙ্গে আমি আমার সন্তানদের নিবিড় পরশও খুঁজে পাই। এ জন্য ছেলেমেয়েদের প্রতি রইল আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সেড়বহ। বহু সুহৃদের নাম এখানে উল্লেখ করতে পারছি না বলে আমার দুঃখবোধ রয়ে গেল। বইটি লেখার কাজে হাত দিচ্ছি জানালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে উৎসাহিত করে বলেছিলেন, পা-ুলিপি প্রস্তুত হলে তিনি দেখে দিতে পারেন। এতে আমার লেখার উৎসাহ-উদ্দীপনা জোরদার হয়েছিল। তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
 
 
বই লেখার বিভিনড়ব পর্যায়ে আমার পিএস এনামুল হাসান, এপি এস দেওয়ান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনু মোহাম্মদসহ আমার সহকর্মীবৃন্দ আমাকে গ্রন্থের পা-ুলিপি প্রণয়নকালে যেভাবে অকৃপণ সহযোগিতা করেছেন তা আমি কোনো দিনই ভুলব না। গ্রন্থের মূল তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে নিতে আমি বাংলাদেশ সচিবালয়ের গ্রন্থাগার থেকে কিছু গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছি। এ কাজে গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক মিসেস শামসুনড়বাহার খানের সহায়তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। জাতীয় গ্রন্থাগার ও আরকাইভস অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এক অনন্য সহযোগিতা করে আমার বইয়ের তথ্যনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করায় তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কপি সরবরাহ করে আমাকে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতার মূল্যবান পরামর্শের জন্য তাঁদের প্রতিও রইল আমার কৃতজ্ঞতা।
 
 
সার্বক্ষণিকভাবে অসীম ধৈর্য নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কমল কুমার দাস ও সহকারী মুজিবুর রহমান মিঠু এই বইটির পা-ুলিপি প্রস্তুত ও তত্ত্বাবধানে যে শ্রম দিয়েছেন তার জন্য আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। পা-ুলিপির খসড়া কম্পোজ, সংশোধিত ও সম্পাদিত প্রুফ সংশোধনের কাজগুলো বিশেষ যতেড়বর সঙ্গে করে দিয়ে সহকারী মুজিবুর রহমান মিঠু আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন। এই গ্রন্থের পা-ুলিপি প্রণয়নে আমাকে অনুজপ্রতিম সহকর্মী বাংলা একাডেমীর সাবেক পরিচালক জনাব আশফাকউল- আলম প্রায় তিন বছর নিয়মিত সহায়তা করেছেন। বইটির প্রাথমিক সম্পাদনা, সম্মার্জনা, ভাষাশৈলী, বানান, বাক্য ইত্যাদি সতর্কতা ও যতেড়বর সঙ্গে করে দেওয়ার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
 
 
এ বইয়ে মুদ্রিত আলোকচিত্রগুলো পেয়েছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব এ. কে. এম. শামীম চৌধুরী ও প্রধান অঙ্কনশিল্পী মো: মোস্তফা কামাল ভূঁইয়ার সহযোগিতায়। তাঁদের ধন্যবাদ। আলোকচিত্র সংগ্রহের বিষয়ে আমার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: তৌহিদকেও ধন্যবাদ।
 
 
বাংলাদেশের প্রথিতযশা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হাক্কানী পাবলিশার্স-এর সুযোগ্য প্রকাশক জনাব গোলাম মোস্তফাকে ২০০৯ সালে কোনো এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় কথাচ্ছলে পা-ুলিপি প্রস্তুত করার কথা জানালে তিনি এটি প্রকাশ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তাঁর প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠান থেকে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র” গ্রন্থমালা পুনর্মুদ্রিত কপির অঙ্গসৌষ্ঠব আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। তাঁর আগ্রহের কথা মনে রেখে পা-ুলিপি প্রণয়নের কাজে যতড়ববান হই। কিন্তু ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা পদের গুরুদায়িত্বে নিয়োজিত হই। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি পা-ুলিপি প্রণয়নের কাজটি এগিয়ে নিতে প্রায় চার বছর লেগে যায়। গ্রন্থে সংযোজনের জন্য প্রামাণ্য দলিল, আলোকচিত্র সংগ্রহ এবং সেগুলোর চূড়ান্ত নির্বাচনকাজটিও সময়সাপেক্ষ ছিল। আশা করেছিলাম বাংলাদেশের প্রধান প্রধান উৎসবের অন্যতম উৎসব ২০১৩ সালের বইমেলায় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসংখ্য বইপ্রেমীর নজরে আমার দ্বিতীয় গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১-৭৫ আসবে। আশা পূর্ণ না হওয়ায় আমার মনে কোনো হতাশা কিংবা দুঃখবোধ নেই। কারণ শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কর্মসূচি, কার্যμমের উল্লেখযোগ্য বিবরণ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়ে আলোর মুখ দেখল। আর এ কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং গভীর আগ্রহভরে এগিয়ে এসে হাক্কানী পাবলিশার্স-এর জনাব গোলাম মোস্তফা আমাকে ঋণী করে রাখলেন। তাঁর প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠান বইটির অঙ্গসজ্জা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ সম্পনড়ব করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করায় আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
 
 
এ গ্রন্থ রচনার প্রμিয়ায় বহুজনের কাছে আমি বিভিনড়বভাবে ঋণী। তাঁদের ঋণ যথাযথ উল্লেখ করা সম্ভব হলে আমি আনন্দিতই হতাম। তবে ঋণ স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ ও সেড়বহ-ভালোবাসা জানিয়ে ওপরে যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁদের সঙ্গে এ গ্রন্থের প্রচ্ছদশিল্পীর কাছে আমার ঋণের দায় স্বীকার না করলেই নয়। পা-ুলিপি প্রণয়নের পর প্রকাশিতব্য গ্রন্থটির অবয়ব সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথিতযশা অঙ্কনশিল্পী হাশেম খানের সুপরামর্শের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
 
 
আমার এই গ্রন্থটির প্রকাশকালে দেশে-বিদ্যমান বিশেষ একটি তাৎপর্যময় ঘটনার কথা এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে তুলে ধরার ইচ্ছা দমন করতে পারছি না। বেয়াল্লিশ বছরের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রμিয়া এক অর্থবহ মাত্রা পেয়েছে। কুখ্যাত রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য বঙ্গবন্ধু প্রসিকিউশন টিম গঠন করলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বিচারকার্যμম বন্ধ হয়ে যায়। সুদীর্ঘকাল এই বিচারকাজ বন্ধ থাকার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকার ২০১০ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শুরু করেছে। গ্রন্থের পা-ুলিপি প্রণয়নপর্যায়ে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনজন মানবতাবিরোধী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে দালালি এবং মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের বিচারের জন্য যেসব ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধুর সরকার আমলে নেওয়া হয়, তার কিছু আলোচনা এই গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে করেছি। ভাবতে ভালো লাগছে যে, এই গ্রন্থটি এমন এক সময় প্রকাশিত হচ্ছে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে এবং অপরাধীরা দ-িত হচ্ছে। আরো ভালো লাগছে এই জন্য যে, সমগ্র বাঙালি জাতি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্ম আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। জনগণের এই দাবি দুর্বার গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই গ্রন্থ প্রকাশনা-ক্ষণে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
 
 
আন্তরিকতা ও যতড়বসহকারে গ্রন্থটি মুদ্রণের চেষ্টা সত্ত্বেও হয়তো কিছু বানান-ত্রুটি কিংবা যান্ত্রিক কারণে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কিছু বিচ্যুতি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। এসব বিষয়ে পাঠকবৃন্দের পরামর্শ পরবর্তী সংস্করণ প্রকাশের সময় যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তাঁদের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা আশা করছি। প্রাপ্ত পরামর্শের আলোকে গ্রন্থটির সৌষ্ঠব বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
 
হোসেন তওফিক ইমাম
(এইচ. টি. ইমাম)
৩০ জুন ২০১৩
 
 
 

সূচিপত্র

 
 
১. স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়                                                                                 
স্বাধীন বাঙালি জাতির রাষ্ট্র; প্রম বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার); বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ : জনযুদ্ধ; মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবহুল শেষ কয়েক মাস। ২৩-৪০
 
২. হানাদারমুক্ত বাংলাদেশ সরকার
মুক্ত বাংলাদেশে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ; রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার; ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। ৪১-৫৮
 
৩. পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
বাঙালি জাতিকে দমনের চেষ্টা ব্যর্থ; বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পটভূমি; মুজিব গ্রেফতারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও সংগঠন; বঙ্গবন্ধুকে হত্যার লক্ষ্যে প্রহসনমূলক বিচার; মাতৃভূমির পবিত্র মাটিতে বঙ্গবন্ধু। ৫৯-৭১
 
৪. রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু : স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ
অবিস্মরণীয় : ১১-১৩ জানুয়ারি ১৯৭২; বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার; মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রসমর্পণ; নীতি চতুষ্টয়; জাতীয়করণ কর্মসূচি; সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান; এক অনন্যসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক। ৭২-৯৫
 
৫. বঙ্গবন্ধুর স্বপড়ব : সরকারের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পরিচিতি; স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন; সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য; স্বাধীন বাংলাদেশে প্রম সাধারণ নির্বাচন; বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি; বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্ভব; বাংলাদেশ বিমানবাহিনী উনড়বয়ন; বাংলাদেশ নৌবাহিনী উনড়বয়ন; সরকার পরিচালনা ও কার্যপ্রণালী বিধি; মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অভিযাত্রা; পাকিস্তানি দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও উন্মুক্ত বিচারকার্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩; সমস্যা উত্তরণে সরকার; জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন; মহান মুক্তিযুদ্ধে নারী সমাজের অবদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন; ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন; ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠন; বাংলাদেশ হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠা; বাংলাদেশ আইন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি; বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তা; পেট্রোল ও খনিজ সম্পদ উৎপাদনে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারি চুক্তি সম্পাদন; রাষ্ট্রপতির ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল গঠন; বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদরাজি; ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB); বাংলাদেশ কনজ্যুমার সাপ্লাইজ করপোরেশন (Coscor) অর্ডার, ১৯৭২ জারি; দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল কমিটি; জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রেক্ষাপট; চিকিৎসাশিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভৌত অবকাঠামো এবং বঙ্গবন্ধুর প্রাতিষ্ঠানিক অবদান; বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধন; বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপড়ব পূরণ; চলচ্চিত্র উনড়বয়ন করপোরেশন; শপথবাক্যের মুসাবিদা তৈরি; আইএমইডি সৃষ্টি; প্রম সাংবিধানিক মন্ত্রিসভার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত। ৯৬-১৫০
 
৬. দেশ পুনর্গঠনে সরকারের প্রারম্ভিক কর্মসূচি
মুক্ত বাংলায় বঙ্গবন্ধুর প্রম ভাষণ; প্রম সাংবাদিক সম্মেলন; হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ; পুনর্গঠনের দায়িত্ব; পুনর্বাসন; পুনর্গঠন কর্মসূচি। ১৫১-১৬৫
 
৭. প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র; আইনের ধারাবাহিকতা ও প্রয়োগ আদেশ-১৯৭১; প্রম বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাবৃন্দ বেসামরিক প্রশাসন পুনর্বিন্যাস কমিটি; অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ গ্রহণ (থানাপর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ, মহকুমা, জেলা, বিভাগসমূহে প্রশাসনব্যবস্থায় পদক্ষেপ); মন্ত্রণালয় গঠন; প্রশাসনিক ও চাকুরি পুনর্বিন্যাস কমিশন গঠন; জাতীয় বেতন কমিশন গঠন। ১৬৬-১৯২
 
৮. আধুনিক সার্বভৌম জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা
বঙ্গবন্ধুর সরকারপদ্ধতি; কার্যপ্রণালী, কার্যবণ্টন ও কার্যপরিচালনা বিধি; জাতীয় সরকার গঠনকালে বিবেচ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; বঙ্গবন্ধু সরকারের বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি; মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রসমর্পণ করে দেশ গড়ার কাজে আহ্বান; রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা; জাতীয়করণ নীতি; গ্রামীণ ও নগরজীবনের বৈষম্য দূরীকরণ; দলীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুর নীতিনির্ধারণী ভাষণ; জাতীয় সরকার গঠনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। ১৯৩-২১৬
 
৯. স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা
যুদ্ধজয়ের আগেই সরকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ; বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন পুনর্গঠন; পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নে আশাবাদ; প্রম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮); পরিকল্পনায় রাষ্ট্রীয় মূলনীতির প্রতিফলন; দুর্নীতি প্রসঙ্গ ও সামাজিক চাহিদা; কৃষি সম্প্রসারণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার; মেহনতী মানুষের ভাগ্যোনড়বয়নে গ্রামসমবায় আন্দোলন; বাংলাদেশের প্রম অর্থনৈতিক দলিল। ২১৭-২৩৪
 
১০. বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভা এবং সরকারের কর্মসূচি
মুজিবনগর সরকার থেকে বঙ্গবন্ধুর সরকার; মন্ত্রিসভার পরিমিত সদস্যসংখ্যা; সাংবিধানিক সরকার গঠন; সাংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধবাদী। ২৩৫-২৪৪
 
১১. ১৯৭২-৭৫ কালে বিভিনড়ব মন্ত্রণালয় বিভাগ অধিদপ্তর গঠন ও সম্প্রসারণ
প্রত্যক্ষভাবে বঙ্গন্ধুর দায়িত্ব গ্রহণ; বঙ্গবন্ধু পরিচালিত সরকার; উনড়বয়নের সোপানে স্থাপন। ২৪৫-২৫৫
 
১২. সরকারের পররাষ্ট্র নীতি (১৯৭১-৭৫)
বাংলাদেশের সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক আদর্শ; সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক; পৃথিবীর শতাধিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়; সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক; বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন; জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদান; জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা; ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ঙওঈ) অধিবেশনে যোগদান; মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক; ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা; সম্পদ সীমাবদ্ধতায় সাহায্য আদায়ের কূটনীতি; আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক; দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট। ২৫৫-২৮৫
 
১৩. স্বাধীন বাংলাদেশে গণমুখী শিক্ষা প্রবর্তন
স্বাধীনতা-উত্তরকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ; বৃত্তিমূলক শিক্ষাকার্যμম; প্রস্তাবিত বৃত্তিমূলক বিষয়ে তালিকা; শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে অগ্রাধিকার বিষয়। ২৮৬-২৯১
 
১৪. সরকার উৎখাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র
ষড়যন্ত্র সম্পর্কে হুঁশিয়ারির পটভূমি; ষড়যন্ত্র উৎখাতে রাজনীতিতে সμিয় বঙ্গবন্ধু; ষড়যন্ত্র-চμান্তের পটভূমিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন; মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু; স্বাধীন বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের জাল; স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সরকারের পদক্ষেপপঞ্জি। ৩০০-৩২২
 
১৫. জাতীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগ
সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণা; জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা; দেশ পরিচালনায় সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি; ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় দল (লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, বাকশালের কার্যনির্বাহী কমিটি, বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটি, বাকশালের অঙ্গসংগঠন, জেলা গভর্নরগণের নামের তালিকা); জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠনে সাহসিকতা। ৩২৩-৩৫০
 
১৬. পরিশিষ্ট ৩৫১-৬০১
 
১৭. গ্রন্থপঞ্জি ৬০৩-৬০৬
 
১৮. নির্ঘণ্ট ৬০৭-৬১০
 
১৯. আলোকচিত্র ৬১১-৬৭৪
 
 
 

Specifications

  • বইয়ের লেখক: এইচ. টি. ইমাম
  • আই.এস.বি.এন: ৯৮৪৭০২১৪০০৯৮০
  • স্টকের অবস্থা: স্টক আছে
  • ছাড়কৃত মূল্য: ১৫০০.০০ টাকা
  • বইয়ের মূল্য: ২০০০.০০ টাকা
  • সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ
  • পৃষ্ঠা: 674
  • প্রকাশক: হাক্কানী পাবলিশার্স
  • মুদ্রণ / ছাপা: টেকনো বিডি ইন্টারন্যাশনাল
  • বাঁধাই: Hardback
  • বছর / সন: আগস্ট, ২০১৩
  • ওজন: 1.3 kg

Share this Book

Sky Poker review bettingy.com/sky-poker read at bettingy.com